Posts

পৌষ সংক্রান্তি ও পিঠে পুলি

Image
  বাঙালির বারো মাসে তেরো পরব, তার একটা উৎসব তথা পরব পৌষ সংক্রান্তি। পৌষ সংক্রান্তির দিন পিঠে পুলি একটা অন্য অনুভূতি সৃষ্টি করে।            বাঙালির প্রত্যেকটা উৎসবই এক একটা অন্য মাত্রা আছে। বিশেষ করে গ্রাম বাংলায়। সেরকমই পৌষ পার্বণে পিঠে খাওয়া একটা অন্য রকম অনুভুতি পাওয়া যায়।                    পৌষ সংক্রান্তি উৎসবকে নানা রকম নামে অভিভূত করা হয়, যেমন পৌষ পার্বণ , পৌষ জাগরণ, মকর, মকর স্নান, পঞ্জাল, পিহু, মকর সংক্রান্তি, পিঠে পার্বণ প্রভৃতি । তবে নাম যায় হোক পিঠের নাম শুনলেই আমাদের জিভে জল চলে আসে। কতো রকমের যে পিঠে তৈরি করা হয় তার ঠিক ঠিকানা নেই।         পিঠে তৈরির মূল উপাদান চাল গুড়ি। চাল ঢেঁকিতে বা মেশিনে পিষে ডাস্ট বা পাউডার করা হয় একে চাল গুড়ি বলা হয়।         পৌষ সংক্রান্তির কয়েক দিন আগে থেকেই পৌষ সংক্রান্তির উৎসব করার আয়োজন করতে থাকেন পরিবারের মা বোনেরা। চাল গুঁড়ো করার জন্য চাল ভিজিয়ে রাখা হয়। অন্যান্য উপকরণ জোগাড় করা। উপকরণ তৈরি করা, জিনিস পত্র...

বাংলায় রঙিন পাহাড়

Image
  ঝাড়গ্রাম, ভারতবর্ষের পশ্চিম বঙ্গের বীরভূম জেলায় রঙিন পাহাড়ের সন্ধান। এবার রঙিন পাহাড়ের স্বাদ আমাদের বাংলাতেও।      ভ্রমণ পিপাসুদের আর গ্যাটের টাকা খরচ করে বিদেশে গিয়ে রঙিন পাহাড় দেখতে যেতে হবে না। রঙিন পাহাড় দেখার স্বপ্ন পূরণ হবে এই বাঙলাতেই। অস্ট্রেলিয়ার মতো "রঙিন পাহাড়"এবার ঝাড়গ্রামে। এতদিন এই জায়গাটি খুব কসংখ্যক মানুষ জানত। এমনকি পর্যটকরাও এই জায়গাটির সন্ধান পায়নি। তাই সাধারণ মানুষের কাছে জায়গাটি অধরা থেকে গিয়েছিল। জঙ্গলের ভেতর একটি বিস্তির্ণ পাহাড় রয়েছে। যে পাহাড়টি রঙিন পাথরে মোড়া। দেখতে যেন অপূর্ব সুন্দর রহস্য লুকিয়ে আছে।      এই রঙিন পাহাড়টি বিভিন্ন রঙে রঙিন। ধূসর, লাল, সাদা হলুদ প্রভৃতি রঙে সজ্জিত। মন জুড়ানো এই দৃশ্য। জঙ্গল ঘেরা এই পাহাড় একদিকে জঙ্গলের স্বাদ, অপর দিকে পাহাড় তথা রঙিন পাহাড় দেখার অনুভুতি পাওয়া যায়।        অবাক করা কান্ড। এতদিন পর্যটকদের কাছে এই জায়গাটি ছিল অচেনা। কিন্তু সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়া মারফত এর হদিশ পায় পর্যটন প্রেমীরা। এর কৃতিত্ব অবশ্যই ওদলচুয়ার বাসিন্দা রাজেশ মাহাতোর। ঝাড়গ্রা...

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা

Image
  বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার হল হকিকত।    বেশ কিছুদিন হলো সোশাল মিডিয়ায় শিক্ষার হাল ফেরানোর জন্য অনেকে নানান রকমের মন্তব্য করেছেন। শিক্ষা এরকম চলতে থাকলে ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যত খারাপ হবে, দেশ পিছিয়ে পড়বে, অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হবে ইত্যাদি মন্তব্য করেছেন অনেকে।      কিন্তু যখন থেকে ধাপে ধাপে শিক্ষা ব্যবস্থার একমুখী পরিবর্তন হয়ে আসছে তখন তো এরাই সেই শিক্ষা ব্যবস্থার একমুখী পরিবর্তনকে সমর্থন করেছেন পুরোদমে। তাদের কথায় যারা পরিবর্তন করেছেন তারা নাকি সমাজের তাবড় তাবড় ব্যক্তি, বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন উচ্চপদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন বা ছিলেন। তাই সমর্থন করতেই হবে। তারা যা করে ভালোর জন্যেই করেন। একরকম ভাবে সমর্থন করা নিজেদের বোধ বুদ্ধি শিখেই তুলে দেওয়া। আর যারা ঐ  শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিল তাদেরকে সমর্থকরা নানা রকম ভাবে হ্যেয় , অবজ্ঞা, লাঞ্ছনা এমনকি ব্যাঙ্গ পর্যন্ত করে চুপ করানোর চেষ্টা করেছিল।          এখন তাদের বোধ জেগে উঠছে কেন, তা তারা নিজেরাও জানে না, বুঝতেও পারছে না। কারণ তারা ভবিষ্যত চিন্তা করে না, তাদেরকে যা...

আসানসোল এলাকার কালী পূজা

Image
    কালী পূজা হিন্দুদের তথা বাঙালিদের আরএক বড়ো উৎসব কালী পূজা। দুর্গা পূজার পরের স্থান কালীপূজা। এই পূজা খুব ধুম ধাম করে অনুষ্ঠান করা হয়।   প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও কালী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, কিন্তু অতটা ধুম ধাম করে নয়। যতটা সম্ভব কম করে পুজো করা হচ্ছে। সোশ্যাল ডিসটেন্স মেনে পুজো করা হচ্ছে। যতটা সম্ভব সামাজিক সুরক্ষা মেনে নিয়ে পুজো পালন করা হচ্ছে।         আসানসোল এলাকার কালী পূজা সেরকমই নিয়ম মেনে করেছে পুজো কমিটি। সোশ্যাল ডিসটেন্স মানার জন্য যেসব নিয়ম নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন সেই সব নিয়ম মেনে পুজো করছে।    মঞ্চ সজ্জা ঠিক মতো সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে। প্যান্ডেল বানানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের বিষয় ভাবনা চিন্তা করে। 

ভাই ফোঁটা

Image
  ভাই ফোঁটা     ভাই বোনের মধুর ও প্রীতির সম্পর্ক বরাবরেই। ভাই বোনের ভালোবাসা এক অন্য ধরনের। তা অন্য কেউ বুঝবে না। ছোটো বেলা থেকেই ভাই বোনের ভালোবাসা গড়ে ওঠে আপনা আপনি থেকেই। এই ভালোবাসা কেউ শিখিয়ে দেয় না। ভাই বোনের মধ্যে নিজে নিজেই গড়ে ওঠে এই ভালোবাসা।     ঝগড়া ঝাটি সব সময় লেগেই থাকে। কারনে অকারণে সময়ে অসময়ে ঝগড়া ঝাটি হবেই। আর মারা মারি স্বাভাবিক ব্যাপার। অল্প একটু কিছুতেই ভাই বোনের মধ্যে মারা মারি লেগেই থাকে। খাওয়া দাওয়া পড়াশুনো বা অন্য কিছু নিয়ে সর্বদা মারা মারি লেগেই থাকে। তবু ভাই বোনের ভালোবাসা অতুলনীয়।       বছরের এই দিনটিতে প্রতি বছর ভাই বোনের মধুর সম্পর্ক পালন করা হয়। যা ভাই ফোঁটা নামে পরিচিত। ভাই ফোঁটা নানা নামে পরিচিত যেমন ভাই দুঁজ, ভ্রাতৃদ্বিতীয়া, ভাইবিজ, ভাইটিকা প্রভৃতি নামে পরিচিত। বিভিন্ন এলাকার স্থানে বিভিন্ন নামে পরিচিত।     একটা মন্ত্র পড়ে ভাই ফোঁটা দেওয়া হয়। এই মন্ত্রটি হলো - "ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা। যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা॥ যমুনার হাতে ফোঁটা খেয়ে যম...

বর্তমানের মানব সমাজ

Image
  বর্তমানের মানব সমাজ  বর্তমানে মানব সমাজ ধর্মের দিক হতে একেবারে নাস্তিক, আচারের দিক হতে খুব যুক্তিবাদী কিন্তু বিচারের দিক থেকে ঘোর কুসংস্কারচ্ছন্ন। মানব জড়িবুটি, তাগা-তাবিজ, মাদুলি, ঝাড়ফুঁক, মন্ত্র-পড়া, তেল-পড়া, জল-পড়া, নুন-পড়া ইত্যাদি নানা কুসংস্কারে আবদ্ধ। আধুনিক শিক্ষাতে শিক্ষিত হয়ে মানব নানা গর্ববোধ করে, কিন্তু নানা রকম কুসংস্কারের শিকড় তার মনের মধ্যে গেড়ে আছে। সুতরাং শিক্ষিত মানবগণও ঐ কুসংস্কার হতে মুক্ত নয়। এরা নিজের অজান্তে বা খেয়ালের আবেগে, ভয়ের তাড়নায় ও লোভের বশবর্তী হয়ে অনেক কুসংস্কার স্বীকার করছে এবং তা আচরণেও কার্যকর করবার প্রয়াস করছে। কী বিভ্রান্তি! কী মেকী শিক্ষার গর্ববোধ! মানবের যতদিন না অধ্যাত্ম চেতনার উন্মেষ হচ্ছে, ততদিন মানবসমাজ কুসংস্কার ও ভ্রান্তি হতে মুক্ত হবে না। তাই যথার্থ বিচার করো, বিবেকী হও। ধর্ম বলতে যা বুঝায়, তা হল—যা সমস্তকে ধারণ করে বা ধরে রাখে এবং যাকে অবলম্বন করে সমষ্টিগতভাবে বাঁচা যায়। কারণ জীবনের কলা হল বাঁচার তাগিদ ও পূর্ণতা লাভের প্রবণতা বা প্রচেষ্টা। সুতরাং ধর্মকে আশ্রয় করেই সমষ্টিগতভাবে বাঁচা যায় এবং পূর্ণতা লাভের পথ প্রশস্ত হয়।  ন...

ভান্নানি দেবীর পূজা।

Image
  দেবী ভান্নানি মন্দির। ভান্নানি দেবীর পূজা।     দুর্গা পূজার পরের দিন থেকে পূজা শুরু হয়, দেবী ভান্নানি পুজা। দুদিন ধরে এই দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। একাদশী ও দ্বাদশীর দিন এই দেবী প্রতিমা তৈরি করে পুজো করা হয়।       ভান্নানি দেবী মাতা সংসারের সমৃদ্ধি কামনায় ও রক্ষায় পূজিত হন। সুখ শান্তি কামনায় মানসিক ও পুজো করা হয়। সংসারের কামনা বাসনা পূর্ণ করতে অনেকে এই দেবীর কাছে মানত করে থাকেন। নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে নিজের সমর্থ অনুযায়ী দেবীর কাছে উৎসর্গ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।           পশ্চিম বঙ্গের মানুষ এই দেবীর পূজা করে থাকেন। বিশেষ করে উত্তর বঙ্গে এই দেবীর পূজোর চল বেশি। উত্তর বঙ্গের বেশির ভাগ মানুষ এই দেবীর পূজা অর্চনা করে থাকেন।       কথিত আছে ভান্নানি দেবী স্বয়ং দুর্গা দেবীর আরেক রূপ। দেবী দুর্গা আরেক অন্য রূপে পূজিত হন উত্তরবঙ্গে। দেবী ভান্নানি রূপে। বহু প্রাচীন কাল থেকে উত্তর বঙ্গে দুর্গা দেবী এই রূপে পূজিত হন।        শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার প্রভৃতি জেলায় এই দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সাধা...